Book

০১) কুরআন তেলাওয়াত, সালাত আদায় ও সিয়াম পালন

যুবকদের জন্য সালাফদের প্রথম নসিহা

কুরআন তেলাওয়াত, সালাত আদায় ও সিয়াম পালন

আমর ইবনে উবাইদুল্লাহ আস-সাবীঈ এর নসিহা
আবুল আহওয়াস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু ইসহাক আমর আস-সাবীঈ বলেছেন,

“হে যুবকেরা! তােমার যৌবনের সদ্বব্যবহার করে এ সময়কে গনিমত হিসেবে মূল্যায়ন করাে। আমার দ্বারা প্রতি রাতে এক হাজার আয়াত পাঠ করা ব্যতিরেকে খুব কমই একটি রাত অতিবাহিত হয়েছে। অবশ্যই আমি এক রাক’আতেই সূরা আল-বাকারাহ্ তেলাওয়াত করি। আর আমি পবিত্র মাসগুলােতে, প্রতি মাসে তিনদিন এবং সােমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম পালন করি। এরপর তিনি এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন,

وأما بنعمة ربك فحدث
আর তােমার রবের অনুগ্রহ তুমি বর্ণনা করাে। [সূরা আদ-দুহা-৯৩ঃ১১]

মুস্তাদরাক লিল হাকিম, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৭৪, হাঃ ৩৯৪৭;

তাঁর বক্তব্য, “আমি প্রতি রাতে এক হাজার আয়াত তেলাওয়াত করি’ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলাে পরিমাণটি আনুমানিক ও কাছাকাছি, যা নির্দিষ্ট নয়। যা দ্বারা বুঝা যায়, তিনি প্রতি সপ্তাহে একবার কুরআন খতম করতেন। কেননা, প্রতি সপ্তাহে একবার কুরআন খতম করা বেশিরভাগ সালাফদের অভ্যাস ছিলাে।

আমর ইবনে মায়মূন থেকে বর্ণনা এসেছে,

তিনি তাঁর কোন এক ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করলেন এবং বললেন,

‘আল্লাহ তা’আলা আমাকে গত রাতে এতাে বেশি সালাত আদায়ের সৌভাগ্য দিয়েছেন এবং এতাে উত্তম জীবিকার ব্যবস্থা করেছেন।’

মুস্তাদরাক লিল হাকিম, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৭৪, হা: ৩৯৪৮।

আবু আব্দুল্লাহ্ আল হাকিম (রঃ) মুস্তাদরাকে পূর্বোক্ত দুটি উক্তি উল্লেখের পরে বলেছেন,

আল্লাহ আমর ইবনে উবাইদুল্লাহ আস-সাবীই ও আমর ইবনে মায়মূন আল আওদির প্রতি রহম করুন। কারণ, তারা অবশ্যই এমন কিছুর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যা যুবকদের ইবাদতের প্রতি উৎসাহিত করবে।

অনুরূপভাবে উপরিউক্ত আসার দুইটি থেকে অনুসরণীয় দৃষ্টান্তও প্রমাণিত হয়। কেননা, যুবকদের সালাফগণের প্রতি অনুসরণে যথেষ্ট প্রয়ােজনীয়তা রয়েছে। যেন তারা খুব সহজে ও উদ্দীপনা নিয়ে অনুসরণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও অভিভাবকদের একান্ত উচিত, বিশুদ্ধ নিয়্যাত ও প্রবল ইচ্ছা নিয়ে যুবক ও ছাত্রদের সতর্ক ও সচেতন করা৷ যেন কোনােভাবে রিয়া বা লােক দেখানাে কর্মে পরিণত না হয়, যা তার আমলকে বিনষ্ট করে দেয়।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.