Book

০৬) মনে রাখবেন যে, যুবক বয়সেও অনেক লােক মারা যায়

যুবকদের জন্য সালাফদের ষষ্ঠ নসিহা

মনে রাখবেন যে, যুবক বয়সেও অনেক লােক মারা যায়

‘আওন বিন আবদুল্লাহ(রঃ) (মৃত্যু ১২০ হিজরির পূর্বে) এর নসিহা
উকবা ইবনে আবী হাকীম (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

‘আমরা ‘আওন ইবনে আবদুল্লাহ (রঃ) এর সাথে বসেছিলাম, তিনি তার দাড়ি নাড়তে নাড়তে আমাদের বলেছিলেন, “হে যুবকরা! আমরা যুবকদের মারা যেতে দেখেছি। কাস্তে এসে গেলে ফসল কাটতে বিলম্ব হয় না।

আল-উমর ওয়াশ শায়ব লি ইবনে আবীদ দুনিয়া, পৃ, ৬১, নং ৪২।

আওন ইবনে আবদুল্লাহ (রঃ) এ কথা দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন, নিশ্চয় যার বয়স পরিণত বয়সে পৌঁছেছে এবং বৃদ্ধ হয়েছে তখন তার মৃত্যু এসে জীবন সমাপ্ত ঘটায়, যেমনভাবে ফসল কর্তনের সময় আসলে, তা কর্তন করা হয়।

তিনি তাদেরকে এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তাদেরকে এই সত্যটি সম্পর্কে সতর্ক করতে যে, যার আয়ু বাড়ানাে হয়েছে তাদেরকে দেখার কারণে একজন ব্যক্তির বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। কারণ যারা বৃদ্ধ বয়সে বেঁচে আছেন তাদেরকে দেখলে অনেকে বােকা বনে যান। বিশ্বাস। করে বসেন যে তারাও একই বয়স পর্যন্ত পৌছবেন। এর ফলে একজন ব্যক্তি অনেক বিষয়কে অবহেলা করে, বিলম্বিত করে। যেমন বলা হয়, ‘কোনাে ব্যক্তিকে দীর্ঘায়ু দেওয়া হয়, যা দেখে অন্যরা প্রতারিত হয়৷ অথচ কত যে যুবক মারা যাচ্ছে তা ভুলে যাওয়া হয়।’

অনুরূপ একই অর্থে হাসান আল-বসরী (রঃ) এর নিকট থেকেও বর্ণিত হয়েছে,

একদিন তিনি তার সাথে বসে থাকা ব্যক্তিদের-যারা প্রবীণ ও যুবকরা ছিল- বললেন,

‘হে মানবমণ্ডলীর নেতৃবৃন্দ, ফসল একবার পাকলে তার সাথে কী করা হবে বলে আশা করা যায়?

তারা উত্তর দিলাে, ফসল তােলা।
তিনি বলেছিলেন,
“হে যুবক-যুবতীরা, শস্য পাকার আগে তা দুর্ভাগ্যেরও শিকার হতে পারে।

ইমাম বাইহাকী, কিতাবুয যুহদ, নং ৫০০; আল-জাওহারুন নাকী আল-মুসতাকা মিন যুহুদিল বাইহাকী, ১ম খণ্ড, পৃ, ২৭।

সুতরাং মুসলিমদের অবস্থা এমনি হওয়া উচিত যেমনটি হাদীসে বর্ণিত

‘আপনি যখন সন্ধ্যায় উপনীত হবেন, তখন সকাল পর্যন্ত পৌঁছার (অর্থাৎ বেঁচে থাকার) আশা করবেন না এবং যখন আপনি সকালে উপনীত হবেন, তখন সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌঁছার আশা করবেন না।

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) মাওকুফ সূত্রে বর্ণিত। সহীহুল বুখারী, হা: ৬৪৪১৬, ১৯৭৭।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.